Wednesday, March 2, 2016

২ মার্চ ১৯৭১: জাতীয় পতাকা

২ মার্চ ১৯৭১ -প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে । ঘটনাটি নিয়ে ভাবতেই কেমন অদ্ভুত অনুভূতি নিজে মনের ভেতর পাক খায়, সেই অনুভূতিটুকু যে গর্বের সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। বই পড়ে যতটুকু জেনেছি , পাকিস্তানের শাসক গোষ্টি তখন মোটেও সহজ কিছু ছিল না। তারা ঘৃণার বিষপাত্রের সবটুকু নিঃশেষ করে ঢেলে দিয়েছিল বাঙালিদের উপর। তাদের মানবিক দীনতা স্পষ্ট হয় ৪৮ এর ভাষা সংকট থেকে শুরু করে ২৫ মার্চ-এ পশুত্বের সীমা ছাড়িয়ে। 
৭১ কোন ছেলেখেলা একটি বিষয় নয়, ভুলবার তো নয় বটেই। মানুষ মানেই বৈচিত্র্য থাকবে, মতের পার্থক্য হবে, প্রত্যেকেই নিজের মতমত নিয়ে হেঁটে যাবে। কিন্তু স্বাধীনতা, এই একটি মাত্র শব্দের জন্যে ৭ কোটি বাঙালীর ঐক্য রূপকথার গল্পে নয়, বাস্তব সত্য একটি ঘটনা, যার দৃষ্টান্ত অনেক বেশি পাওয়া যাবে এমন মনে করি না। 

২৫ মার্চের রাতের কথায় ভাবুন। রাতের অন্ধকার সুনসান তারার আলোয় বাতাসে প্লেগের মতো ভয় ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। একদঙ্গল মনুষ্যত্বহীন, বিবেকবর্জিত, মস্তিষ্কবিহীণ দুপেয়ে প্রাণি ট্যাংক নিয়ে যাত্রা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। তারা ভেবেছিল কিছুক্ষণ পরেই সুর সুর করে নেমে এসে নতজানু হয়ে হাটু গেড়ে বসে যাবে তাদের সামনে সব ছাত্ররা, তারা ভুল করেছে এইবলে প্রাণ ভিক্ষা চাইবে। কি অসীম সাহস তাদের, কেও আত্মসমর্পণ করে নি, বরং লাঠি নিয়ে রুখে দাড়িয়েছে, যেন তারা জানতো এই দিন দিন নয় আরও দিন আছে। তার ভুল করেনি, নির্ভীক থেকে আকাশের সহস্রকোটি নক্ষত্রের মাঝে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে । 

১৬ ডিসেম্বর এ আত্মসমর্পণ করার সব আনুষ্ঠিকতা শেষ করে নিয়াজী নাকি ভারতীয় জেনারেলকে প্রশ্ন করেছিল, “বলুন তো এই যুদ্ধ আমরা কি যথেষ্ট সাহসের সাথে লড়ি নি? পাঁঠার মতো প্রশ্ন। সাহসিকতা কাকে বলে তা বাঙালিরা হারে হারে তাদের দেখিয়ে দিয়েছে। পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে ভুট্টো যখন তার শেষ চালটি চালতে চেয়েছিল, বঙ্গবন্ধু তার হাতে বন্ধী থেকেও তা হতে দেন নি। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুতি নিতে নিতে দীর্ঘ নয় মাস কারাগারের নিকৃষ্টতম প্রকোষ্টে থেকেও কোনও মুহুর্তেও ভেঙ্গে পরেন নি, তাদের সাথে কোন রকম সমঝোতা করেন না, সপ্তাতের পর সপ্তাহ কোন বাক্য ব্যয় না করে কাটিয়ে দিয়েছেন । এর থেকে বড় সাহসীকতা, ধৈর্য কেও দেখিয়েছে কখনো ? 
বাঙ্গালী ৪৮, ৫২, ৬৯, ৭১ এর সেই সাহসীকতার মহাকাব্যের শেষ কখনই হবে না। 

এতো শত সাহসীকতা আর বিজয়ের গল্পগাথা আমাদের থাকলেও মাঝে মাঝেই মনের ভেতর অদ্ভুত রিনিরিন ভাব চলে আসে, একরাশ কুয়াশা যেন ভেতরটা ভিজিয়ে দেয়, মনটা খারাপ হয়ে যায়। এই গল্পগাথা গুলো নিয়ে আমরা কথা বলি না, এগুলো খাবার টেবিলের গল্পের বিষয় বস্তু হয়ে উঠে না। বরং কেও কেও এগুলো নিয়ে পশ্ন করে, বিশ্বাস করতে চায় না, রূপকথার গল্পের মত হালকা ভেবে হেসে উড়িয়ে দেয়। 

আমাদের ধৈর্য, সাহসিকতা, বিজয়ের স্বারক জাতীয় পতাকা অম্লান থাকুক, পত পত করে উড়ে চলুক আরও সহস্র বছর।

Tuesday, November 3, 2015

ফার্মি প্যারাডক্স ও আমার মোটা হওয়া

আমি যে অনেক বেশি খাওয়াদাওয়া(যতটুকু না হলেই না) করি না সেই কথা কেও বিশ্বাস করতে চায় না। করবেই বা কেন, ঘটনা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে কিছুদিন পর আমার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সমান হয়ে যাবে। দিন দিন মোটা হচ্ছি- হচ্ছি তো হচ্ছিই। কেন হচ্ছি তার কারণ অবশ্য অবর্তমান।  

স্বাক্ষর একদিন বলছিল, ‌‌‌‌‌‌‌'ওই মিয়া এতো খাও কেন?'

তো আমি বেশ কিছুদিন থেকে আমি কতটুকু খাচ্ছি তা তাকে দেখাচ্ছি। স্বাক্ষর আর আমি একই অফিসে চাকরি করি। সে সুবাধে খাওয়া দাওয়া একসাথে করা হয়। আমি খাওয়ার আগে স্বাক্ষরকে দেখাই কতটুকু খাচ্ছি।  
সে আজ বলছে “তোমার ঘটনা ফার্মি প্যারাডক্স এর মতো।”  

ফার্মি প্যারাডক্স বুঝতে হলে সবার আগে আমাদের রাতের বেলায় আকাশে তাকাতে হবে। তারপর অসংখ্য তারার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। তাকিয়ে থেকে থেকে এইসব মহাজাগতিক সৃষ্টি নিয়ে ভাবতে হবে।   

এ মহাবিশ্বের আকার এতো এতো বড় যে আমাদের কল্পনার জগৎকে এতো সহজে অতিক্রম করে যে নিজেকে তখন অনেক ছোট এবং অসহায় মনে হয়। পরিষ্কার রাতের আকাশে আমরা  খালি চোখে খুব বেশি হলে ২৫০০ তারা দেখতে পারি যেগুলোর  প্রায় সব গুলোই অন্তত্যপক্ষে ১০০০ আলোকবর্ষ দূরে। কিন্তু আমরা যখনি এইসব তারা আর ছায়াপথ নিয়ে চিন্তা করি তখনি আমাদের মাথায় সেই  সবচেয়ে কঠিন কিন্তু পুরোনো  প্রশ্নটি  আসে -  আরো কোন বুদ্ধিমান প্রাণি আছে এই মহাবিশ্বে ?  

আমাদের এই ছায়াপথে যতগুলো তারা আছে( ১০০-৪০০ বিলিয়ন),  মোটামুটিভাবে ততসংখ্যক ছায়াপথ আমাদের এই অবজার্বেবল ইউনিভার্সে আছে। সব মিলে সংখ্যাটা দাড়ায়- 10^22 থেকে 10^24 ।  
তার মানে দাড়ায় পৃথীবিতে যতগুলো বিচ আছে এবং সেগুলোতে যতগুলো বালি আছে, তাদের প্রত্যেকটির জন্যে ১০,০০০ তারা আছে।  

তবে সবাই অবশ্য আমাদের সূর্য্যের মতো তারকার সংখ্যা নিয়ে একমত হন না। মতামত ৫% থেকে ২০% এর দিকে থাকে সাধারণত। এই মতামতকে সম্মান করেও বলা যেতে পারে ৫০০ বিলিয়ন বিলিয়ন সূর্যের মত তারকা আছে। তো এগুলোর ১% এর মধ্যে যদি পৃথিবীর মতো একটি করে গ্রহ থাকে, তাহলে তার সংখ্যা ১০০ বিলিয়ন বিলিয়ন। ধরে নেই এক বিলিয়ন বছর লাগে একটি প্রথিবীর মতো গ্রহে প্রাণ তৈরি হতে। ধরে নেই, এর ১% গ্রহে প্রাণ মানুষের মতো উন্নত প্রাণিতে পরিণত হয়। তাহলেও আমরা বলতে পারি, এই অবজারভেবল ইডনিভার্সে অন্তত্যপক্ষে ১০ মিলিয়ন বিলিয়ন ইন্টেলিজেন্ট সিভিলাইজেশান আছে।  

কিন্তু যদিও অন্যান্য ছায়াপথে (গ্যালাক্সি) তে  ইন্টেলিজেন্ট সিভিলাইজেশান থাকে, কিন্তু সেগুলো সম্পর্কে জানার কোন উপায় নেই, এর কারণ হচ্ছে আমাদের এই ইউনিভার্স সবসময় সম্প্রসারিত হচ্ছে। যদিও আমাদের অনেক দ্রুত স্পেসশিপ থাকে, সেগুলো অন্য গ্যালাক্সিতে পৌছতে বিলিয়ন বছর লেগে যাবে। 

Let's forget about other universe. 

অবজারভেবল ইডনিভার্স থেকে শুধুমাত্র আমাদের এই ছায়াপথ মানে এই মিল্কিওয়ের কথা যদি চিন্তা করি, তাহলেও ১ বিলিয়ন পৃথিবীর মতো গ্রহে অন্তত্যপক্ষে ১০০,০০০   ইন্টেলিজেন্ট সিভিলাইজেশান আছে।  
যদি তাই হয়, এখন পর্যন্ত আমরা কোন সিগনাল পাইনি এইসব  ইন্টেলিজেন্ট সিভিলাইজেশান পক্ষ থেকে। তাইলে কই এরা ? রবীন্দ্রনাথের মতো বলবো -  

“আজ এই জোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে বসন্তের এই মাতাল সমীরণে।।”

কিন্তু সেটা কেও বলছে না। তাহলে ঘটনা কি?  

ঘটনাটা হচ্ছে, প্রবাবিলিটি বলছে ইন্টিলেজেন্ট সিভিলাইজেশন থাকার কথা। মানুষ এর এতোগুলো ইন্টেলিজেন্ট সিভালাইজেশন এর একটা ফ্রাকশন ও যদি  অন্ত্যত্যপক্ষে রেডিও সিগনাল বা লেজার বিম বা অন্য কোন উপায়ে সিগনাল পাঠাতে পারে তাহলে তা আমরা ধরতে পারবো, কিংবা আমাদের সিগনাল তারা ধরতে পারবে। কিন্তু সেই ঘটনা এখনো ঘটেনি।  

এই ঘটনা হচ্ছে ফার্মি প্যারাডক্স।  

এতো প্যাচাল পারার পর আসল ঘটনা বলি। সেটা হচ্ছে দুটি প্রবাবিলিটিক ঘটনা বলছে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হওয়া উচিৎ কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।  

আমি অনেক বেশি খাইনা, সুতরাং আমার মোটা হওয়ার পশ্নই উঠে না। কিন্তু রিয়িলিটি হচ্ছে আমি দিন দিন ফুটবলের মতো মোটাই হয়ে যাচ্ছি।  

যেহেতু ফার্মি প্যারাডক্স এর কারণ কেও এখনো উদ্ধার করতে পারে নি, আমিও জানি না কেন মোটা হচ্ছি। 

Sunday, October 18, 2015

অবসর নিয়ে ভাববার মতো অবসর কোথায়


একটা সময় ছিল যখন আমি চাইলেই কবিতা লিখতে পারতাম। কবিতা নিয়ে ভাবতাম। পুরো মাথায় রাজ্যের কল্পনা ভর করে থাকতো। মনে মনে নানারকম গল্প তৈরি করতাম। সেই সময়টাকে খুব মিস করি এখন।

বড় হয়ে যাওয়ার মাঝে অসুবিধে ছাড়া সুবিধে খুব একটা দেখিনে আজকাল। বড় হয়ে যাওয়া মানেই কল্পনার সেই অলিক পৃথিবীকে ছুড়ে ফেলে বাস্তবকে বেশি করে উপলদ্ধি করা। রূপকথা থেকে ইতিহাস কিংবা চলমান ঘটনা প্রবাহ বেশি প্রায়োরিটি পায়। ইদানিং গল্পের বই পড়া হয় না। বই পড়লে ইতিহাস, প্রবন্ধ, দর্শনের বই বেশি পড়া হয়। টিভি দেখি না। দেখলে খবর ছাড়া আর কিছু দেখা হয় না।

বড় হওয়াটা বড় রকম অন্যায়। তবে সুবিধের মধ্যে একটা সুবিধা অবশ্য আমি দেখি- সেটি হলো নিজের ইচ্ছে মতো খাওয়ার সুবিধে। এই যেমন খেয়ে খেয়ে ফুটবল হয়ে যাচ্ছি।

এই সপ্তাহের ছুটির দিন দুটো শুধুই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলেম। এতো অলস সময় অনেকদিন কাটানো হয় নি।

ইংরেজীতে একটা শব্দ আছে, ‌‌'Leisure'  যাকে আমরা বোধহয় ভুলতেই বসেছি। এই সময়টাতে সবাই কেমন করে জানি workaholic হতে বসেছি। আমি নিজেও কাজ করি। আনন্দ বা প্রমোদ যাই বলি না কেন সেটা খুবই সীমাবব্ধ রেখে কাজ করে যাওয়ার দলে আমি। নিজেকে প্রোডাক্টিভ রাখার চূড়ান্ত চেষ্টা আছে আমার। এই ব্যপারটিকে ইংরেজিতে হয়তো বলে productivity-fetishism.  এর বাংলা কি হতে পারে চিন্তা করে পেলাম না। এই সময়টাকে নিজের জন্যে আলাদা করে একান্তে কিছু ভাববার সময় খুব একটা নেই। সময় গুলো শুধুমাত্র কাজের জন্যেই। আলাদা করে নিজের জন্যে সময় বের করে নিজের মতো ব্যায় করাটা যেন অনেকটা self-indulgent luxury. কিন্তু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে যে - গ্রেট আর্ট কিংবা ফিলোসফিক্যাল আইডিয়াস, নানা রকম ব্রেকথ্রু গুলো কিন্তু অবসরের ভাবনার ফসল।

Leisure কিন্তু breaks, time off, weekends, vacation  এগুলোর সাথে যায় না। এটা অনেকটা আত্মার সাথে সম্পর্কিত। এর মানে কাজ থেকে পালানো নয় বা হঠাৎ করেও উধাও হয়েও যাওয়া নয়। বরাং নিজেকে নিজের মতো করে চলতে দেওয়া খানিকটা। অনেকটা হঠাৎ করে ঘুম চলে এলে নিজেকে ঘুম থেকে বিরত না রেখে ঘুমিয়ে পরা। নিজের মতো করে খানিকটা সময় নিরব থাকা। প্রতিদিনের কাজের জগৎ থেকে আলাদা হয়ে নিজের ভাবনার জগতে হারিয়ে যাওয়া হতে পারে। যা ইচ্ছে করে করা যেতে পারে। মনের মাঝে প্রশান্তি, এক ধরণের সুখ সুখ অনভূতি নিয়ে, সমস্ত কোলাহল থেকে আলাদা হয়ে, নীরব- নিস্তব্ধ ভাবে থাকাটাকে Leisure বলা যেতে পারে। এতে করে মানুষ তার নিজের নিজস্বতাকে ফিরে পায়। আরোপিত সকল কাজ, বাধা বিপত্তি থেকে নিজেকে দূরে রেখে একাকি নিজের ভাবনার সমুদ্রে ডুবে যেতে পারে, নতুন নতুন ভাবনা তৈরি করতে পারে।

এই সময়টা প্রত্যেকেরই প্রয়োজন।

যতোই বড় হচ্ছি আর নিজের মতো করে নিজের সময়টুকু বের করার ফুসরৎ আরও কমে যাচ্ছে।

অবসর নিয়ে ভাববার মতো অবসর কোথায় ?

Thursday, December 4, 2014

Point of Existence

থাকা আর না থাকার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? এই এতো মানুষ, প্রতিদিনই কত শত হাজার নতুন আসছে পৃথিবীতে , যাচ্ছেও সেরকম। এই যাওয়া আসার জন্যে কত-শত আয়োজন, কোলাহল, কত আরম্ভরতা।

এই মহা বিশ্বের সাথে আমাদের এই পৃথিবীকে তুলনা করলে তাকে ধূলি কণা বললেও ভুল হবে না। একটি ধূলি কণা নিয়ে পুরো জগতের মাথা ব্যথার কি বা কারণ থাকতে পারে ! কোন কিছু নিয়ে মন খারাপের কোন কারণ নেই। আমি আছি, থাকবো না এর মাঝের ব্যবধানটুকু অতি ক্ষুদ্র।

বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে নানা রকম মহাজাগতিক রশ্মির ইন্টারসেকশনে তৈরি হয় মিওন যার লাইফ টাইম হচ্ছে ২ মাইক্রোসেকেন্ড। মুহূর্তেই হাজার হাজার কোটি তৈরি হয়, আলো কাছাকাছি বেগে পৃথিবীতে আঘাত হানে, তারপর নাই হয়ে যায়, তাতে কি আমার কিছু আসে যায়?  আমার মন খারাপ হলেও আলফা সেনচুরি-র কিছু আসে যায় না। তাহলে আমাদের এইসব জীবন যাপন অহেতুক?

সব কিছুই যেন ছোটন্ত ঘোড়া। ছুটে চলার আনন্দেই চলা। কেন এই ছুটে চলা, যার কোন মানে নেই। ছুটে চলার মাঝে কি আনন্দ আছে? আনন্দই বা কি? মস্তিস্কের অনুরণন?

এও হতে পারে এই সব যা দেখছি তার কোন কিছুই সত্যি নয়, শুধুই কারো ভাবনা ?

Monday, September 22, 2014

জাভা কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে ভাল পারফর্ম করে

জাভা কোড প্রথমে বাইটকোডে কম্পাইলড হয়, তারপর সেটিকে জাভা ভার্চুয়াল মেশিন এক্সিকিউট করে। বাইটকোড হচ্ছে এক ধরনের ইন্টারমিডিয়েড ল্যাংগুয়েজ যা কিনা ঠিক মানুষের পাঠ উপযোগী নয়, আবার মেশিনের জন্য ও নয়। এটি শুধুমাত্র জাভা ভার্চুয়াল মেশিন (JVM)পড়তে পারে। বাইটকোডকে এক্সিকিউট করার জন্য জাভা ভার্চুয়াল মেশিন জাস্ট ইন টাইম (JIT) কম্পাইলার ব্যবহার হরে। JIT বাইটকোড কে সরাসরি ইন্টারপ্রেট করে। এটি রানটাইম-এ বাইটকোড কে ইন্টারপ্রেট করে মেশিন কোড-এ রূপান্তরিত করে যা কিনা সিপিইউ রান করে। এখানে একটি ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন হতে পারে, জাভা কি তাহলে ইন্টারেপ্রেটেট ল্যাংগুয়েজ নাকি কম্পাইল্ড ল্যাংগুয়েজ? উত্তর কিন্তু দুটোই । জাভা একি সঙ্গেসঙ্গে কম্পাইলড এবং ইন্টারপ্রেটেড ল্যাংগুয়েজ।


উপরের লাইনগুলো পড়ে আপনি মনে করতেই পারেন যে, JIT আসলে জাভাকে স্লো করে দিচ্ছে, কারণ এটি প্রোগ্রাম যখন চলে তখন ইন্টারপ্রেট করছে। এই উপসংহার হয়তো ইনটিউটিভ, তবে সঠিক নয়। JIT আসলে অনেক ভাল ভাবেই কাজ করে।


C/C++-কে সাধারণভাবে ধরা হয় যে জাভা থেকে বেশি ভাল পারফর্ম করে। জাভা যেহেতু অন-দ্যা-ফ্লায় এক্সিকিউট করে, এজন্য অনেকটা এভাবে চিন্তা করা হয়। কোড-কে মেশিন কোড-এ রূপান্তরিত করার জন্য আসলে খুব বেশি সময় লাগে না, তারপরও যদি কোনো ল্যাংগুয়েজের কোডকে এক্সিকিউট করার আগে তাকে মেশিন কোড এ রূপান্তরিত করতে না হয়, তাহলে ধরা হয়, সেই ল্যাংগুয়েজ অনেকটা ফাস্টার। মজার ব্যপার হচ্ছে কোন কম্পাইলার-ই কিন্তু টপ-নচ এসেম্বলি প্রোগ্রামারদের মতো যারা কিনা কোনো হার্ডওয়্যারকেকে টার্গেট করে মেশিন কোডকে সরাসরি মেনিপুলেট করতে পারে, তাদের মতো মেশিন কোড তৈরি করতে পারে না, যা কিনা অনেক বেশি পার্ফরমেন্ট হবে। C/C++ কিংবা জাভা সবগুলোর-ই কিছু না কিছু সমস্যা আছে। জাভাকে রান করার আগে অন-দ্যা-ফ্লায় মেশিন কোড তৈরি করতে হয়, C/C++ এর কোড ও কিন্তু অনেকটা জেনেরিক ভাবেই কম্পাইলড হয়। C/C++ এ কিন্তু সরাসরি একটি নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারকে টার্গেট করে কোড লেখা হয় না সবসময়।

মজার ব্যপার হচ্ছে, জাভা ভার্চুয়াল মেশিন কিন্তু খুব-ই ইন্টেলিজেন্ট এনভায়রনমেন্ট এবং JIT নিজেও খুব-ই ইন্টেলিজেন্ট কম্পাইলার। উদাহরণস্বরূপ- JVM জানে যেকোনো মেথড কতবার কল করা হচ্ছে, কারণ JVM মেথড কল কাউণ্ট করে । যখন এই কাউন্ট একটি নির্দিষ্ট থ্রেসহোল্ডের বাইরে চলে যায়, তখন সেই মেথড-এর মেশিন কোডJVM রেখে দেয়, পরের বার আবার কল করা হলে, সেটি আর সেই মেথডকে ইন্টারপ্রেট না করে সরসরি সেই রেখে দেওয়া মেশিন কোড-কে দিয়ে দেয় যা কিনা বারবার বাইটকোড থেকে মেশিনকোড-এ ট্রান্সলেশান করার কস্ট কমিয়ে দেয়। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, JIT কম্পাইলার, যে সব কোড খুব বেশিবার ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে অপটিমাইজ করে। JIT নানা ধররণের স্ট্যাটিসটিক্স কালেক্ট করে থাকে। রিসার্সে দেখা গেছে যে, 80% সময়ে আসলে মোট কোডবেইস এর 20% কোড এক্সিকিউট করা হয়। সুতরাং এই 20% কোড গুলো যদি আলাদা করা যায়, এবং এদেরকে অপটিমাইজ করা যায়, তাহলে কিন্তু হিউজ পারফরমেন্স গেইন করা যাবে। মজার ব্যপার হচ্ছে JIT আসলে তাই করে। এটি (hotcode) এই 20% কোড কে আলাদা করতে পারে এবং এদেরকে অপটিমাইজ করতে পারে। ওরাকলের জাভা ভার্চুয়াল মেশিন হটস্পট (hotspot)-এরf নাম হয়তো অনেকেই জানি, এটির নামকরণ করা হয়েছে এই জন্য যে, এটি এই হট স্পট গুলোকে আলাদা করতে পারে। জাভা যেহেতু JVM এর জন্য লেখা হয়, এবং JIT সেটিকে মেশিন কোড এ রূপান্তরিত করে, এটি কিন্তু রানটাইমে হার্ডওয়্যার এর ইনফরমেশন একসেস করতে পারে এবং তার উপর ভিত্তি করে অপটিমাইজ মেশিন কোড তৈরি করে পারে, যা কিনা C/C++ এর ক্ষেত্রে অনেক সময়ই সম্ভব হয়ে উঠে না।


সুতরাং উপসংখ্যার হচ্ছে, জাভা আসলে অনেক বেশি ভাল পারফর্ম করে, কিন্তু সেটা হয়তো একটি ছোট হ্যালোওয়ার্ল্ড টাইপ অ্যাপ্লিকেশন লিখলে দেখা সম্ভব হবে না, কিন্তু আমরা যদি অনেক বড়ো বড়ো অ্যাপ্লিকেশন রান করি, এটি খুব ভাল ভাবে, অন্যান্য ল্যাংগুয়েজ থেকেও অনেক বেশি ভালভাবে কাজ করবে ।

Wednesday, March 26, 2014

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা

যারা জন্ম থেকেই স্বাধীন তাদের কাছে স্বাধীনতার গুরুত্ব খুব সহজ একটা ব্যাপার। সেটা খুব বেশি করে উপলব্ধি করার মতো অবস্থা মনে হয় স্বাধীনতা উত্তর অর্থাৎ আমাদের প্রজন্মের খুব বেশি হয় নি। কারণ পরিবেশ, সময়ের ব্যাপ্তিতে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারও হালকা হয়ে আসে যদি সেটা নিয়ে অনুশীলনের ঘাটতি থাকে। আমাদের অনুশীলনের যে ঘাটতি রয়ে গেছে সেটা বোধহয় কাউকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। সবাই বুঝতে পারে। আমরা যারা নিজেদের স্বাধীন এবং আধুনিক মানুষ মনে করি, তাদের অনুশীলন গুলো যে দায়িত্বপূর্ণ হবে সেটাই স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। দেশ ব্যাপারটি উপলব্ধির ব্যাপার। আমরা যেমন প্রতিদিন নিয়মিত গোসল করে নিজেদের পরিষ্কার রাখি, এই পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়াটা কিন্তু একটা কাজ, সেটা নিজের জন্যে করি, আলস্য কিংবা অন্য কোন অজুহাত এসে বাধা দেয় না। ঠিক তেমনি দেশকে নিজের অংশ মনে করে নিলে মনে হয় অজুহাত দেওয়ার অংশগুলো কমে যাবে। দেশ আমাদের পরিচর্যা (Serve) করবে না, বরং আমরা দেশকে পরিচর্যা করবো, এমনটাই হওয়ার কথা। কিন্তু তারপরেও আমরা প্রতিনিয়ত নানা রকম অজুহাত বা যুক্তি তৈরি করে গালা গালি করি, এই দেশ আমাদের কি দিয়েছে বা দেয়নি তার হিসেব-নিকেষে বসে যাই, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে থাকি। হিসেবটা বোধহয় উল্টাটা হওয়াই উচিৎ ছিল।

আধুনিক মানুষের দায়িত্বগুলো বুঝে নেওয়াটাও ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে থাকে। দেশকে পরিচর্যা করা খুব কঠিন কাজ নয়, নিজের জায়গা থেকে নিজের কাজটুকু সঠিক ভাবে করে যাওয়টাই দেশের পরিচর্যা। দেশ মূলত একটি সু-সংগঠিত সিস্টেম। সেই সিস্টেমের উপাদান গুলো একটি আরেকটির উপর নির্ভর করে।  একটি বিশৃঙ্খল হলেই তার প্রভাব অন্যগুলোর উপর পরে। এই জন্যে আমার মনে হয় প্রত্যেকটি মানুষের ফিলোসপিকাল দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত হওয়া খুব বেশি জরুরি। নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটা খুব ছোট ঘটনার ভাল মন্দ আলাদা করার পার্থক্য বুঝতে না পারলে সেটার প্রভাব বুঝতে পারাও কঠিন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়– একজন রিক্সাওয়ালা যেখানে ১০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা ভাড়া নেয়, তারও প্রভাব অন্য যায়গায় পরে। একজন রিক্সাওয়ালর তার নিজের কাজের জন্যে গর্ব করার কথা ছিল কিন্তু অনেক সময় অন্যের দয়া কিংবা অনুগ্রহকে মিশিয়ে ফেলে কিংবা জোর করে অন্যকে বিপদে ফেলে। এটি একটা ছোট্ট সিস্টেম ইরর, যদিও আমরা সবসময় ইগনোর করে থাকি।

এই স্বাধীনতা দিবসে সবাইকে শুভেচ্ছা,  সেই সাথে সবার ব্যক্তিত্ববোধ জেগে উঠবে, সবাই দায়িত্বশীল আধুনিক মানুষ হয়ে উঠবে সেই কামনা ব্যক্ত করছি।

এর সাথে স্বাধীনতা দিবস নিয়ে অনেক ছোট বেলার লেখা একটা কবিতাও দিয়ে দিলাম।


তিক্ত ২৫ মুক্ত ২৬

আরক্ত পৃথিবী, আতিক্ত মানব
তমিস্র হিংস্রতায় অবগাহন;
আজ স্মরণে ব্যাথার স্মৃতি সব।
সুখ ও কৃষ্ণতায় উত্থিত মন, মনন।

ক্লান্ত দেহ, অবসন্ন মন, নিশুতি আকাশ
সুখনিদ্রা, ক্রমশ গভীর হতে রাত্রি
হঠাৎ শব্দ, মাতিল উগ্র গন্ধে বাতাস,
সেদিন; তীব্র ভয়, বাঁচিবার আর্তি।

কঠিন আচরে বাংলার ভূমি, অগ্নিদাহ্য নক্ত,
হা হা কার। করুণ আকুতি, চক্ষুষ্মান রক্তবন্যা।
সজ্জিত হানাদার মাতাল মন করছে সিক্ত
তারপর; চারদিকে ঘোষিত রব, আন বাংলার স্বাধীনতা।

Monday, December 9, 2013

A great place to learn and mingle



The Java User Group Bangladesh (JUGBD) is now formed and successfully finished its 2nd meetup in last week. We are doing great, it’s not an exaggeration.

For those who doesn’t know what is JUG, let me brief a little. Java User Groups (JUGs) are basically a group of enthusiastic people who loves java and develop product and service using Java related technology and love to share their knowledge with others. We get together in some place and then talk to each other, eat and have fun.





The primary vision of JUGBD is to continue meeting on very regular basis. As all the people are involved here are too much cool and enthusiastic, it always feels better to talk to each other and learning new things.

In August 2013, we had our first meetup. On this day, we formed the group with a few Java programmers of different software firms and with some students, both of whom were present at the event. Later we decide to have another meetup, which was held on 6th December 2013. This time, we received a huge response from the programmers here in Dhaka, a lot of them were physically present and most of them supported us. We had three speakers at this event. They gave a talk on how Java technology influenced other technology, big data (Cassendra) and JVM diagnostic. All of the talks were excellent.

A lot of software firm are stepping forward to help our events. Meetup 2.0 was sponsored by Therap Services, LLC. In addition, we got our sponsor for the next meetup already, which is really helpful to our community. We greatly appreciate this sort of help.



Right now, we are looking to contribute to some open source projects and thus we are looking for problems, ideas. Here is an open invitation to everybody: if you are a java programmer, enthusiastic about learning new stuff and love to talk about technologies, please join us. It’s a great opportunity for us to learn and mingle.